বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এখন আর কেবল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা।
স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সাথে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতে AI ব্যবহারের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

AI ব্যবহারের হার কতটা বেড়েছে?
বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে AI ব্যবহার করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট সাজেশন, ভয়েস সার্চ, অটোকরেক্ট, চ্যাটবট, অনলাইন শপিং রিকমেন্ডেশন—এগুলো সবই AI প্রযুক্তির উদাহরণ।
বিশেষ করে:
- শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে AI-এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি
- অফিস ও কর্মক্ষেত্রে ডেটা বিশ্লেষণ ও কাস্টমার সাপোর্টে AI-এর ব্যবহার বাড়ছে
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন AI-এর সুবিধা নিচ্ছে
শিক্ষা খাতে AI-এর উন্নতি
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে AI ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।
অনলাইন ক্লাস, স্মার্ট মূল্যায়ন, ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিগত শেখার পদ্ধতিতে AI ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে:
- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে AI ও ডেটা সায়েন্স কোর্স চালু করা হয়েছে।
- গবেষণা ও প্রজেক্টে AI টুল ব্যবহার করা হচ্ছে।
- শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে AI ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে এআই -এর ব্যবহার
স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশাল।
বর্তমানে:
- টেলিমেডিসিন
- অনলাইন প্রাথমিক চিকিৎসা
- রিপোর্ট বিশ্লেষণ
এসব ক্ষেত্রে AI সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় AI আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে AI একটি বড় পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে।
AI ব্যবহার করে:
- ফসলের রোগ শনাক্তকরণ
- আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- সঠিক সময়ে সেচ ও সার প্রয়োগ
কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কৃষকদের জন্য এআই-ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে।
ব্যাংকিং ও ব্যবসা খাতে এআই
ব্যাংকিং ও ফিনটেকে AI-এর ব্যবহার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
- জালিয়াতি শনাক্তকরণ।
- লেনদেন বিশ্লেষণ।
- চ্যাটবট গ্রাহকসেবা।
ই-কমার্স ও ডিজিটাল ব্যবসায় AI গ্রাহকের পছন্দ বুঝে বিজ্ঞাপন ও বিক্রয় কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে।
চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?
AI ব্যবহারের অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু সমস্যাও রয়েছে।
- দক্ষ AI বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে।
- মানসম্মত ডেটার সংকট রয়েছে।
- গ্রামাঞ্চলে প্রযুক্তির সীমিত প্রবেশ রয়েছে।
- ডেটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতিমালা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের হার আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে এআই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপসংহার
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, এবং এর উন্নতির ধারা স্পষ্ট।
সঠিক পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে, AI প্রযুক্তি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে।