নির্বাচনের আগে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বগতি

ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। একই সময়ে শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি । ছবি- সংগ্রহীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে পরিবারের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে এবং স্বজনদের সহায়তা দিতে প্রবাসীদের মধ্যে দেশে বেশি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) প্রায়  ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

একক মাস হিসেবে এটি ছিল দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২৯ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

একক মাস হিসেবে সেটিই ছিল দেশের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

ওই সময় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া সদ্য সমাপ্ত বছরে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার।

যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের সমান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার,

আগস্টে ২৪২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার,

নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং সর্বশেষ ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

তারা বলছেন, অর্থপাচার ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা অনেকটাই কমে এসেছে।

পাশাপাশি, কয়েক মাস ধরে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (ACU) বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

চলতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক আকুর বিল বাবদ ১৫৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *