
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো পক্ষই নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করতে পারে নি।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের প্রায় ২ হাজার ৭০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।
তবে, অগ্রগতির গতি অত্যন্ত ধীর এবং এর বিপরীতে তাদের লোকবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি অনেক বেশি।
ধীরগতির অগ্রযাত্রা
স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় রাশিয়ান বাহিনীর অগ্রগতি দিনে গড়ে মাত্র ৫০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
বিশেষ করে খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক এলাকায় এই ধীরগতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে, যুদ্ধটি ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ কার্যত একটি সামরিক স্থবিরতায় পৌঁছেছে।
ভারী ক্ষতি ও যুদ্ধ ক্লান্তি
রাশিয়া দাবি করছে যে তারা কৌশলগতভাবে এগিয়ে আছে, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
পশ্চিমা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের প্রাথমিক যুদ্ধ লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—যেমন দ্রুত কিয়েভ দখল বা ইউক্রেনের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও চাপে রয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে সৈন্যদের ক্লান্তি ও পালিয়ে যাওয়ার (desertion)-এর মতো ঘটনা বেড়েছে।
পাশাপাশি, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ২০২৪ সালে ইউক্রেনের বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ সীমিত হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ
ইরান ছাড়তে নিজ নাগরিকদের ‘জরুরি নির্দেশনা’ দিল যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা ও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা
উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়া নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা ও জনবল ব্যবহার করছে, যা সংঘাতকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা যুদ্ধের ক্লান্তি এবং সামরিক অচলাবস্থার কারণে কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইউক্রেন ইঙ্গিত দিয়েছে যে নতুন মার্কিন প্রশাসনের অধীনে শান্তি আলোচনার পথ খোলা থাকতে পারে।
তবে একটি বড় বাধা রয়ে গেছে—২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির জারি করা ডিক্রি, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেখা যায়নি।
শেষ কথা
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে রাশিয়া যে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের দাবি করেছে তা অর্জন করতে পারেনি।
রাশিয়ানরা ছোট ছোট অঞ্চল দখল করার জন্য প্রচুর সৈন্য এবং সরঞ্জাম হারিয়েছে যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত এবং বেশ ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
বর্তমানে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এমন একটি অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধ সম্পূর্ণ সামরিক বিজয় অর্জনের চেয়ে সংলাপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
শান্তির পথ এখনও স্পষ্ট নয় কারণ নেতারা আলোচনা করতে চান না এবং উভয় পক্ষের একে অপরের প্রতি আস্থা নেই।
নোটঃএই প্রতিবেদনটি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও গণমাধ্যম সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল।
সূত্র: Institute for the Study of War (ISW), Reuters, Associated Press (AP)