মঙ্গলবার ১৩ই জানুয়ারি দিবাগত রাতে আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে নেওয়া হয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-এর ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান:
“হুজাইফাকে আনুমানিক রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তাঁর অবস্থা দেখে সংকটাপন্ন বলেই মনে হচ্ছে।
তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,
হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়েছে।
পোস্ট-অপারেটিভ রুমে তার জন্য আগে থেকেই একটি বেড সংরক্ষিত রাখা ছিল। শিশুটির সার্বিক শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে মিয়ানমার সীমান্তে সংঘাতের ঘটনায় টেকনাফের শিশু হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।
গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতে শিশুটির মস্তিষ্কের এক পাশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
চাপ কমানোর চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে তার মাথার খুলির ডান পাশের অংশ অপারেশনের মাধ্যমে খুলে রাখা হয়েছে।
শিশুটির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
বোর্ডে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, আইসিইউ স্পেশালিস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশ নেন।
দীর্ঘ পর্যালোচনার পর শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র : ঢাকা পোস্ট