Site icon DHAKAVOX

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ।কিশোরগঞ্জ-৫

দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতীক সংগ্রহ করার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল । ছরি – সংগ্রহিত

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের এবং প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বহিষ্কারের একদিন আগের বক্তব্য

বহিষ্কারের ঠিক একদিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ মার্কা প্রতীক গ্রহণ করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। সে সময় তিনি বলেন—

“দল এখন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, আশা করি আর নেবেও না। শতভাগ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে।”

কিন্তু তার এই বক্তব্যের একদিন পার না হতেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

 মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:

“দীর্ঘ পঁচিশ বছর রাজনীতির ফসল হিসেবে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল কিন্তু রাতের আঁধারে ভিন্ন দল থেকে আসা একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। যিনি নিজের সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য নিজের পিতার গড়া দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন হাইজ্যাক করেছেন।”

তিনি আরও জানান যে, জনতার আবেদনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং এখন তিনি “জনতার প্রার্থী”।

“আমার মার্কা এখন হাঁস। আমি জনতার পাশে আছি। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে, তবে আমি আশা করি জনতার যে দল, সেই হিসাবে জয় আমাদেরই হবে ইনশাআল্লাহ।”

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বার্তা

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল দাবি করেন যে, দলের কোনো সিদ্ধান্ত তাকে দমাতে পারবে না এবং নেতাকর্মীরা পদ-পদবি বিসর্জন দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

“সমস্ত নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। কোনো প্রভাবই আমাদের ওপর বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এই মার্কা ও এই রেজাল্ট আমরা তখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দেব।”

 সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবি

তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।

“মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার আবেদন।”

সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া

বহিষ্কারের পর শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকদের মধ্যে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

তাঁর সমর্থকদের বড় একটি অংশ বিএনপি’র নেতাকর্মী হলেও তাঁরা প্রকাশ্যে তাঁর পাশেই থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

কেউ কেউ স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করছেন, আবার কেউ বলছেন—

“দীর্ঘ ২৫ বছর ইকবাল ভাই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। দুর্দিনে বিএনপির হাল ধরে রেখেছেন। আমরা তাঁর সাথেই আছি। বিজয় আমাদেরই হবে ইনশাআল্লাহ।”

 সারাদেশে বহিষ্কার অভিযান জোরদার।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ছাড়াও ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীকে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি বহিষ্কার করেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধেই পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতেও বহিষ্কারের আদেশ আসতে পারে।

Exit mobile version